গাংনীর জোড়পুকুর গ্রাম সামান্য বৃষ্টিতেই যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ

Read Time:7 Minute, 42 Second

আকতারুজ্জামান মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার জোরপুকুর গ্রামটি এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়। যোগাযোগের একমাত্র রাসত্মাটি নষ্ট হওয়ায় ও বর্ষার পানি নিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রায় ৭ হাজার বাসিন্দা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত ছাড়াও ব্যবসা বানিজ্যে নেমে এসেছে ধ্বস। জনপ্রতিনিধিদের উদাসিনতার কারণে গ্রামটির এই দুরাবস্থা বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসি। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানালেন বারবার বরাদ্দ চেয়ে কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এই গ্রামটিতে রয়েছে স্কুল ও কলেজসহ ৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি ব্যাংক ও ব্যবসা কেন্দ্র। পাশেই রয়েছে অমত্মতঃ ১৫ টি চাল কল। শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে যাতায়াত ছাড়াও ব্যবসা ক্ষেত্রে নেমে এসেছে ধ্বস। পানিবন্দি মানুষেরা স্যাৎ স্যাতে পরিবেশ ও পানিয় জলের অভাবে জ্বর, সর্দি কাশিসহ নানা ধরনের পেটের পীড়ায় ভুগছে।

জোড়পুকুর গ্রামটিতে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাসত্মার মধ্যে দু’কিলোমিটার হেরিং বন্ড ও দেড় কিলোমিটার কাচা। গ্রামবাসিদের যোগাযোগের একমাত্র রাসত্মাটির অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও রাসত্মা কেটে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে কোন বাড়ির আঙ্গিনায় এক চিলতে শুকনো জায়গা নেই। অধিকাংশ লোকই তাদের গবাদি পশু অন্য গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন । অনেকেই  গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

গ্রামের প্রবীণ ব্যাক্তি আবদুস সাত্তার জানান, বিশ বছর আগে যখন রাসত্মা নির্মান করা হয়েছিলো সে সময় গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য কোন ব্যবস্থা না রাখায় গ্রামটিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া রাসত্মার পাশের পুকুর ও খাদা খন্দে মাটি ভরাট ও প্যালাসিটির কোন ব্যবস্থা না করায় কিছু দিনের মধ্যে রাসত্মা ধ্বসে পড়ে। তার পর থেকে কোন জন প্রতিনিধি রাসত্মাটির মেরামতের চেষ্টা করেননি।

গাংনী মহিলা কলেজের প্রভাষক নুরুন্নবী জানালেন, জোড়পুকুর গ্রামটি এমনিতেই একটু নীচু এলাকা। তার উপরে অপরিকল্পিত ভাবে রাসত্মা নির্মান ও পানি নিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় যেমন গ্রামবাসি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তেমনি রাসত্মা ধসে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাসত্মার বেহাল দশার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জিবনযাত্রা ব্যহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগি নিয়ে।

বিশিষ্ট মাছ চাষি ইমারুল জানালেন, নির্বাচন আসলেই জনপ্রতিনিধি ও তার লোকজনের দেখা মেলে। রাসত্মা নির্মানসহ নানা ধরণের প্রতিশ্রুতি দেয় । নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাদের দেখা মেলেনা। তিনি আরো জানান, আর মাস খানেক পর ফসল কাটা মাড়াই শুরু হবে। কিন্তু রাসত্মা ঘাটের যে অবস্থা তাতে চাষিরা যে কি করবে তা ভেবে পাচ্ছেনা। গত ৩ মাস এ গ্রামের লোক পানি বন্দি। পানি ও কাদা শুকাতে আরো ২ মাস সময় লাগবে।

জোরপুকুর বাজারের ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায়ি ও গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, এই গ্রামের লোকজন অনেকেই গ্রাম ছেড়ে যাবার পরিকল্পনা করছে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার ব্যঘাত ছাড়াও চাষাবাদ ও ব্যবসা বানিজ্যে বাঘা গ্রসত্ম হচ্ছে। কোমলমতি ছেলে মেয়ে কাদা পানি পার হয়ে স্কুলে আসতে পারে না। কয়েকদিন পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাছাড়া পানিতে ডুবে প্রাণ হানিও ঘটার আশংকায় অনেকেই তাদের সমত্মানদেরকে স্কুলে আসতে দেয়না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক গ্রামবাসি জানালেন, প্রাক্তন মেম্বর মোজাম্মেল হক রাসত্মার বিভিন্ন অংশের ইট তুলে নিয়ে বাড়ির প্রাচীর তৈরী করেছেন। যখন রাসত্মা তৈরী হবে তখন ইট ফেরত দেয়ার কথা বলেছেন। এদিকে ইউপি মেম্বর মোজাম্মেল হক বলেছেন অন্য কথা । তিনি জানান, ভেঙ্গে যাওয়া রাসত্মার ইট গ্রামের অনেকেই তুলে নিয়ে উঠানে দিয়েছেন।

গ্রামের বাসিন্দা ও সদ্য নির্বাচিত ইউপি মেম্বর শাহাবুদ্দিন জানান, গ্রামবাসিদের দুর্ভোগের কথা ভেবে ইতোমধ্যে রাসত্মা নির্মান ও পানি নিষ্কাশনের দাবী জানিয়ে গন স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন পত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে দেয়ার জন্য প্রস্ত্তত করা হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বসত্ম করেছেন।

শাহারবাটি ইউপি চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান বাবলু জানান, গ্রামের অবস্থা জানিয়ে এলজিইডি অফিসে আবেদন নিবেদন করা হলেও কোন সাড়া মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে মাসিক মিটিংয়ে আলোচনা করা হলেও কোন কাজ হচ্ছেনা ।

এব্যাপারে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নবিছদ্দীন জানান, গ্রামের রাসত্মাটির ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে মেহেরপুর নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরের  উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  রাসত্মাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।

0 0
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *