গাংনীতে মুক্তিযোদ্ধার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

Read Time:6 Minute, 43 Second

স্টাফ রিপোটারঃ মেহেরেপুরের গাংনীতে মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হকের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ভাবে বলা হয়ঃ-

’’আজ আমরা অন্ত্যান্ত মর্মাহত এবং ক্ষুদ্ধ, আপনারা জানেন যখন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্য দান কারী সংগঠন বাংলাদেশ আওমীলীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সেই সময় বঙ্গবন্ধুর খুনী মেজর বজলুল হুদার দেহরক্ষী ছাবদাল হোসেন কালুর নেতৃত্বে প্রকাশ্য দিবালকে গত ২৪ আগষ্ট রাজপথে মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হককে হত্যার উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত আক্রমন করা হয় দির্ঘ ১০ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ৫ সেপ্টম্বর তিনি মৃত্যু বরন করেন। সব চাইতে দুঃখের বিষয় গাংনী থানার ওসি বিমল কৃষ্ণ মল্লিক ঘটনা স্থলে উপস্থিত থাকা সত্তেও  এ ধরনের ঘটনা কিভাবে ঘটতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা অত্যান্ত খোভের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, হত্যার পর  মেহেরপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার হোসেন এখন পর্যন্ত ঘটনা স্থলে যাননি। কি এক অজ্ঞাত কারনে তার এ অনিহা আমরা তা বুঝতে পারছিনা। যেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধার স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যরান্টি নাই সেখানে স্বাভাবিক মানুষের অবস্থা ভাবাই যায়না। আজকের এ  সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হকের হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবী জানাচ্ছি। আমাদের দাবী আদায়ের জন্য আমরা কঠিন কর্মসুচি দিতে বাধ্য থাকব।’’

এ সংবাদ সম্মেলন থেকে খুনিদের গ্রেফতারের দাবীতে আগামী ৮ সেপ্টম্বর বিকাল ৩ টায় গাংনী বাজার বাসষ্ট্যন্ডের শহীদ রেজাউল চত্তরে এক প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।

এ সংবাদ সম্মে লনে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যন এ.কে.এম.শফিকুল আলম, গাংনী পৌর মেয়র আহম্মেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেন,  গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুনতাজআলী সহ গাংনী উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা।

গাংনী পৌর মেয়র আহম্মেদ আলী বলেন, পুলিশ আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনের নামে টাকার বিনিময়ে পরিকল্পিত ভাবে মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হককে ডেকে এনে খুন করিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। নাহলে পুলিশের উপস্থিতিতে মাত্র ১০০ হজ দুরুত্তে হামলা কারীরা কিভাবে হামলা করে পালাতে সক্ষম হয় তা আমার বোধগম্য নয়।

গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যন এ.কে.এম.শফিকুল আলম মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হকের স্বাক্ষর কৃত সরাষ্ট্রা মন্ত্রনালয়ে প্রেরীত ছাবদাল হোসেন কালুর দুষ্কৃতি মূলক কার্যকলাপের ৯টি চিত্র সম্বলিত কপি সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, যথেষ্ট তথ্য প্রমান থাক্ সত্তেও মেহেরপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার হোসেনের পক্ষপাতিত্ব মূলক তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ছাবদাল হোসেন কালু পার পেয়ে যায় এবং তার পথের কাটা সরাতেই পরিকল্পিত ভাবে মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হককে হত্যা করেন।

গাংনী থানার ওসি বিমল কৃষ্ণ মল্লিকের সাথে কথা বল্লে তিনি জানান, মিটিংএ আজিজুল হককে আমি ডেকে আনিনি, ছাবদাল হোসেন কালু তাকে ডেকে এনেছিলেন এবং ১০০ হজ দুরুত্তে হামলা হয়নি দুরুত্ত ছিল প্রাই আধা কিলমিটার। পুলিশ এখনো তৎপর আছে হামলা কারিদের ধরার জন্য।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার হোসেনের সাথে মোবাইলে কথা বল্লে তিনি জানান, উপজেলা চেয়ারম্যন কি বলেছেন তা আমি জানিনা তবে আজিজুল হকের স্বাক্ষর কৃত সরাষ্ট্রা মন্ত্রনালয়ে প্রেরীত ছাবদাল হোসেন কালুর দুষ্কৃতি মূলক কার্যকলাপের ৯টি চিত্র সম্বলিত কপির ব্যপারে আমি কিছুই জানিনা। ৬ সেপ্টেম্বর সকালে আমি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। হামলা কারিদের জামিন বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে এবং তাদের ধরার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

উল্লেক্ষ্য গত ২৪ আগষ্ট সকালে গাংনীর আমতৈল বাজারে গাংনী থানার ওসি বিমল কৃষ্ণ মল্লিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতা ও ষোলটাকা ইউপি চেয়ারম্যান ছাবদাল হোসেন কালু ও তার লোকজন আওয়ামীলীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর হককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে প্রথমে গাংনী  ও পরে ঢাকা পিজি হা্সপাতালে প্রেরণ করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরও তার অবস্থার কোন পরিবর্তন না হওয়ায় গত ৫ সেপ্টম্বর রোববার ভোরে রাতে তার মৃত্যু হয়।

0 0
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *